Published : 07 Jun 2026, 01:11 AM
গাজীপুরের কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগারে নির্যাতনের শিকার হয়ে লেখক মুশতাক আহমেদের জীবনাবসান ছিল রাষ্ট্রের এক গভীর ব্যর্থতার প্রতীক। তাঁর প্রতিবাদী মন এবং দেশের রাজনীতি ও সমাজজীবনে তাঁর উজ্জ্বল উপস্থিতি এই মর্মান্তিক ঘটনার আরও তীব্রতা বৃদ্ধি করেছে। ‘মুশতাক আহমেদ (ডিলিটেড বাই দ্য স্টেট)’ শীর্ষক বইটির প্রকাশনা উৎসব ও আলোচনা অনুষ্ঠানে বক্তারা এই বক্তব্য পেশ করেন। আজ শনিবার রাজধানীর মোহাম্মদপুরের স্যার সৈয়দ রোডের প্রবর্তনায় গয়রহ প্রকাশনী এই বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এই বইটির সংকলন ও সম্পাদনা করেছেন মনজুর হোসেন এবং গয়রহ প্রকাশনী বইটি প্রকাশ করেছে। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে কারাবন্দী লেখক মুশতাক আহমেদ গাজীপুরের কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগারে জীবনাবসান করেন। এই প্রকাশনা উৎসবে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরার বলেন, ‘দেশের রাজনীতি ও সমাজজীবনে মুশতাক আহমেদের স্থান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।’ তিনি জোর দিয়ে বলেন, মুশতাকের মৃত্যু তাঁকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। যে কাস্টোডিয়াল নির্যাতন এবং হেফাজতে নিপীড়নের শিকার হয়ে তিনি জীবন হারান, তা রাষ্ট্রের চরম ব্যর্থতা নির্দেশ করে।
বইটির সংকলক ও সম্পাদক মনজুর হোসেন মন্তব্য করেন, ‘গত দেড় বছরে আমি মূলত এই বইটির ওপর মনোযোগ দিয়েছি, অন্য কিছু করিনি।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন যে মুশতাক আহমেদের মতো প্রতিবাদী ব্যক্তিত্বদের কখনো মুছে ফেলা যায় না। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মানজুর-আল-মতিন বলেন, শারীরিক অসুস্থতার পরেও যে আদালত ছয়বার মুশতাক আহমেদের জামিন খারিজ করেছিল, সেই বিচার ব্যবস্থা পরিবর্তন করা প্রয়োজন। এই অবিচারকে অবশ্যই মোকাবিলা করতে হবে। লেখকের ভাই নাফিসুর রহমান বলেন, মুশতাক বরাবরই ছিলেন অত্যন্ত সাহসী। তিনি কুমির এবং রোহিঙ্গাদের মতো স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে কাজ করেছেন। তাঁর প্রতিবাদী মন সবকিছুর ঊর্ধ্বে ছিল। তিনি মনে করেন, অনেক সময় বিবেকের কাছে মন মরে যায়, আর সেই নীরবতা ভাঙার জন্য প্রতিবাদ অপরিহার্য। মুশতাক তাঁর প্রতিবাদী চেতনাকে বাঁচিয়ে রেখেছিলেন।
মুশতাক আহমেদের বন্ধু আনিসদৌল্লা জানান, মুশতাক ভ্রমণ ও ফটোগ্রাফি সহ সব ক্ষেত্রেই ছিলেন অসাধারণ। সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছিলেন তিনি। গয়রহের পক্ষ থেকে সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে মানবাধিকারকর্মী ছন্দা মাহবুব বলেন, এক ভয়ের সংস্কৃতির মধ্যে তাঁরা ছিলেন। সেই সংস্কৃতি তাঁদের নীরবতা পালন করতে বাধ্য করেছে, এবং আজও তাঁরা নীরবতা ভাঙতে ভয় পান। এই বইটি সেই নীরবতাকে ভেঙে সাহস জুগিয়েছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপব্যবহারের বিরুদ্ধে এটি এক অপরিহার্য দলিল হয়ে থাকবে। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন রুছেলী খান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন লেখক মুশতাক আহমেদের মা জেবুন্নেসা রাজ্জাক এবং স্ত্রী মাসিয়া আক্তার।।